অপ্রাপ্তি নিয়েই চলে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র বর্মন

জলঢাকা

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

চলে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র বর্মন, রয়ে গেল স্বীকৃতির অপ্রাপ্তি।স্বাধীনতার সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন নরেশ চন্দ্র বর্মন।শত্রুদের পরাজিত করে স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা যখন মুক্ত আকাশে উড়ছিল ঠিক সেই সময় থেকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।অথচ অর্থাভাবে তার নাম তুলাতে পারে নি।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা নরেশ চন্দ্র বর্মন (৭৬)।তার পিতা মৃত পূর্ণ চন্দ্র রায়।নরেশ চন্দ্রের ৩ মেয়ে ও এক ছেলে।

সংসারের হাল ধরা একমাত্র ছেলে চায়ের দোকানদার জানান,একাত্তরে তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও আজও স্বীকৃতি পায়নি।দীর্ঘদিন ফুসফুসের সমস্যা জনিত কারনে আজ রবিবার (০৪-০৪-২১) দুপুরে জলঢাকা হাসপাতাল এ মারা যান।মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে সন্মান,স্বীকৃতি আর সহযোগীতা কোনটি তার ভাগ্য জুটলো না।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়,তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ভারতের রায়গঞ্জ মুজিব ক্যাম্প ১২ নং সেক্টরে যোগদান করে সেখানে ট্রেনিং করেন। সেখান থেকে পরে তাকে পাঠানো হয় বুড়িমারি ৬ নং সেক্টরে। এরপর ৬ নং সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে বুড়িমারি থেকে এসে তারা, হাতিবান্ধার বড়খাতা, আদিতমারি ও কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। ভারতীয় তালিকা অনুযায়ী সেখানে নরেশ চন্দ্রের কার্ড নম্বর ৪১৪২০।

এ ব্যাপারে জলঢাকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হামিদুর রহমান জানান,২০১৭ সালে তার কাগজ পাঠানো হয়েছিল।কিন্তু এখনো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট বের হয় নি।

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান জানান,ভারতীয় তালিকায় যেহেতু তার নাম আছে, সেহেতু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার এর মাধ্যমে তার শেষকৃত্য সম্পূর্ণ হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।