কিশোরগঞ্জে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন তোলার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ নির্বাচিত খবর শিক্ষাঙ্গন শিরোনাম শীর্ষ খবর সারাদেশ


শামীম হোসেন বাবু কিশারগঞ্জ,সংবাদদাতাঃ
নীলফামারীর কিশারীগঞ্জ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফের স্ত্রী আয়শা আইরিন বিরুদ্ধে দুইটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারী অংশের বেতন উত্তোলন করার অভিযাগ উঠেছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, আয়শা আইরিন কিশারীগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে সহকারী শিক্ষক ও কিশারীগঞ্জ মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসাবে কর্মরত। এবং এই দুইটি প্রতিষ্ঠানেই এমপিও ভুক্ত। ঘটনাটি আজ বুধবার এলাকায় প্রকাশ হয় পড়লে চাঞ্চল্যের সস্টি হয়। এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আয়শা আইরিনের স্বামী কিশারীগঞ্জ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ বিভিন্ন স্থানে দেনদরবার শুরু করেন।সরেজমিনে জানা যায়, আয়শা আইরিন ২০০১ সাল এপ্রিল মাসে কিশারীগঞ্জ শিশু নিকতন স্কুল এ্যান্ড কলেজে সামাজিক বিজ্ঞান শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন এবং ওই বছরেই সেপ্টেম্বর মাসে তিনি এমপিওভুক্ত হন। তখন থেকে তিনি সরকারী অংশের বেতনভাতা উত্তোলন করে আসছেন। তার স্কুল শাখার ইনডক্স নম্বর ৫৫৮৬১৪। এবং সোনালী ব্যাংক কিশারীগঞ্জ শাখার হিসাব নম্বর (একাউট) ৩৪০৩২৬৯৩।
অপর দিকে ওই শিক্ষিকা স্কুলে কর্মরত অবস্থায় কিশারীগঞ্জ মহিলা কলেজে ২০০৪ সালে ইসলামর ইতিহাসের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ২০১৯ সালের ২৩ অক্টাবর কিশারীগঞ্জ মহিলা কলেজ জাতীয়করন করা হয়। সরকারী ঘোষনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের পহেলা জুলাই থেকে চলতি বছরের(২০২০) মে মাস পর্যÍন্ত এমপিওভুক্ত কলেজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মোট ১১ মাসের সকল সুযোগ সুবিধা সহ সরকারী বেতনভাতা পাবেন। আয়শা আইরিনর কলেজ শাখার ইনডক্স নম্বর ৫৬৭৯৮৩০২ ও কিশারীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার হিসাব নম্বর (একাউট) ০১০২১৩০২ ।সে অনুযায়ী আয়শা আইরিন কিশারীগঞ্জ মহিলা কলেজের প্রভাষক হিসাবে সরকারী অংশের প্রতিমাসের বেতনভাতা ও বানাস সহ মোট ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা উত্তোলন করেন।
এ বিষয়ে কিশারীগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক বুলবুল বলেন, আয়শা আইরিন আমার প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখার সামাজিক বিজ্ঞানের এমপিও ভুক্ত একজন সহকারী শিক্ষিকা। তিনি আমার প্রতিষ্ঠানের বাহিরে একটি কলেজের প্রভাষক এটি আমার জানা নেই।
অপর দিকে কিশারীগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজার রহমানের কাছে এ বিষয় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আয়শা আইরিন আমার কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের এমপিও ভুক্ত প্রভাষক। তিনি কিশারীগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত এটি আমার জানা নেই। আমি প্রভাষক হিসাবে সরকারী অংশের এমপিও বিল হিসেবে তার বেতন ভাতা দিয়েছি। তিনি দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারী বেতন ভাতা নিবেন, কিনা, সেটি তার ব্যাক্তিগত বিষয়।
এ বিষয় অভিযুক্ত শিক্ষিকা আয়শা আইরিন সাংবাদিকদের বলেন আমি আগে কিশারীগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজে কর্মরত ছিলাম। বর্তমানে সেই প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তোলনকৃত বেতনভাতা সরকারী কোষাগারে ফিরত দিয়েছি। কারন আমার কলেজের বেতন হয়েছে। আমি স্কুলের চাকুরী ছেড়ে কলেজের চাকুরীটি করবো। এর বেশি বলতে পারব না।
কিশারীগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, ওই শিক্ষিকার সরকারী কোষাগাড়ে টাকা ফিরত বা জমা দেয়ার কোন কাগজপত্রাদী হাতে পাইনি।
কিশারীগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরুল আমিন শাহ্ এ ব্যাপারে বলেন ,বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।