কিশোরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে গাঁয়ে মরিচের গুড়া ও লবন ছিটিয়ে নিযার্তনের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ নির্বাচিত খবর শিরোনাম শীর্ষ খবর সারাদেশ


কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)সংবাদদাতাঃ যৌতুকের দাবিতে সবুজা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধুকে শারিরিক নিযার্তনের পর গাঁয়ে মরিচের গুড়া ও লবন ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শশুর, শাশুরীর বিরুদ্ধে। ঘটঁনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের পানিয়ালপুকুর কাচারীপাড়া গ্রামে। খবর পেয়ে ওই গৃহবধুর স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
জানা গেছে, দেড় বছর আগে পানিয়ালপুকুর কাচারীপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে সবুজা আক্তারের সাথে একই গ্রামের হাসিবুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রউফের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকমাস পর সবুজার স্বামী, শশুর ,শাশুরীসহ শশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে গৃহবধু সবুজাকে শারিরিক ভাবে নিযার্তন করতে শুরু করে। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সবুজার স্বামী ও শশুর শাশুরী যৌতুকের দাবিতে সবুজাকে মারধর শেষে গায়ে মরিচের গুড়া ও লবন ছিটিয়ে দেয়।
সবুজার বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর আমার জামাই রউফ যৌতুকের জন্য প্রায়ই আমার মেয়েকে মারধর করত। সর্বশেষ গত একমাস আগে রউফ আমার মেয়েকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে আমার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসি। কিন্তু পরে আমার জামাই বিভিন্ন কৌশলে আবারো আমার মেয়েকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নিযার্তন শুরু করে।
কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ওই গৃহবধু ব্যাথার যন্ত্রনায় ছটফট করছেন, এসময় তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন,যৌতুকের জন্য আমার স্বামী,শশুর, শাশুরী সোমবার সন্ধ্যার দিকে আমাকে প্রচন্ড মারধর করে আমার কোলের আট মাস বয়সী শিশু সন্তানকে কেঁড়ে নিয়ে আমার শরীরে মরিচের গুড়া ও লবন ছিটিয়ে দিয়েছে।
নিতাই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল খালেকের সাথে কথা বললে তিনি ঘঁটনার বিষয় স্বীকার করে বলেন, এর আগে আমি ওই গৃহবধুকে নিযার্তনের হাত থেকে রক্ষার জন্য মেয়েটিকে তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।
কিশোরগঞ্জ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আমেরা আলমাস বলেন, সবুজার শরীরে বিভিন্ন জায়গায়, কোমরের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (নবাগত) মোঃ আব্দুল আউয়ালের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এ বিষয়ে এখনো কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। তাঁরপর আমি হাসপাতালে মহিলা পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নেব। ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।