জলঢাকায় করোনা জয় করে বাড়ি ফিরলো দশ বছরের শিশু মিম

অন্যান্য জলঢাকা নির্বাচিত খবর শিরোনাম শীর্ষ খবর সারাদেশ


স্টাফ রিপোর্টারঃ দশ বছরের শিশু মিম দীর্ঘ ১৬ দিন করোনার সাথে যুদ্ধ করে মঙ্গলবার  জয়ী হয়ে দুপুরে নিজ বাড়ি ফিরেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ তাঁকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে নিজবাড়ি ফিরে যেতে সহযোগীতা করেন।
মিম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের মেয়ে। সে ওই গ্রামের স্কুলের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী।
মিমের বাবা দিনমজুর মশিউর রহমান জানায় তার মেয়ে হঠাৎ করে পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হলে তাকে জলঢাকা উপজেলা হাসপাতালে ১১ মে রাতে নিয়ে এসে ভর্তি করাই। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পেটের ব্যাথায় মেয়ে সুস্থ হলে ১৩ মে সকালে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসি। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের করোনা ভাইরাসের নমুনা নিয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ১৬ মে নমুনার রির্পোটের আমার মেয়ের করোনা পজেটিভ আসে। সেদিন রাতেই স্বাস্থ বিভাগের লোকজন এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আমার মেয়েকে উপজেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়াডে ভর্তি করে। আমার শিশু মেয়েটির কেন করোনা হলো বুঝতে পারিনি। মেয়ের করোনা হওয়ায় আমার পরিবারের সকলেই নমুনা দেই। লকডাউন থাকতে হয় ১৪ দিন। কিন্তু আমাদের রির্পোট নেগেটিভ আসে। তিনি বলেন করোনার মতো জটিল ভাইরাসের চিকিৎসা উপজেলা হাসপাতালে হয় ভাবতে পারেনি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে বিনা খরচে জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে এটি বিশাল পাওয়া আমাদের।
তিনি কান্না বিজরিত কন্ঠে বলেন চিকিৎসা চলাকালীন আমরা কেউ হাসপাতালে মেয়েটির কাছে থাকতে পারিনি। হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সরা আমার মেয়েকে নিজের মেয়ে ভেবেই তারাই তার সেবা করেছেন। আমি এমন ঋণ তাদের কোন দিন শোধ করতে পারবোনা বলে কেঁদে ফেলেন মিমের বাবা।
মিম জানায় করোনা ভাইরাসে আমি আক্রান্ত হলেও আমার মনে কোনো ভয় ছিলনা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ডাক্তার আন্টি ও কাকুরা ,ও নার্স আন্টিরা আমাকে নিজের মেয়ের মতো করে সেবা দিয়েছেন। গরম পানি করে দিয়েছেন। ফলমুল এনে নিয়মিত খাইয়েছেন। তিন বেলা ভাল খাবার দিয়েছেন। সময় মতো ঔষুধ সেবন করিয়ে দিয়েছেন। আমি তাদের ভুলতে পারবোনা।
দীর্ঘ ১৬ দিন চিকিৎসা শেষে এখন মিম সুস্থ হয়ে নিজবাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় ডাক্তার ও নার্সদের জড়িয়ে কেঁদে উঠেছিল। এ সময় মিমের কন্ঠে ছিল থ্যাংকস ডাক্তার নার্স আন্টি কাকুদ্বয়।
উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা ডাঃ আবু হাসান মোঃ রেজওয়ানুল কবির বলেন উপজেলা হাসপাতালের সকল চিকিৎসক ও নার্সরা সকল প্রকার রোগীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। ছোট শিশু মিমের সেবাটি ছিল চ্যালেঞ্জ। সকলের মনে ভয় ছিল আমরা তাকে সুস্থ করে তুলতে পারবো কিনা। সেই চ্যালেঞ্জ এখানকার চিকিৎসা ও নার্সরা সফলতার মুখ দেখিয়েছে।
নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ রনজিৎ কুমার বর্মন জানান, জেলার ছয় উপজেলার ডিমলা উপজেলা ছাড়া বাকী ৫ উপজেলা হাসপাতালে আমরা করোনা রোগীর জন্য আইসোলেশ ওয়াড চালু করি। প্রতিটি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়াডে করোনা রোগী রেখে প্রতিজন চিকিৎসক ও নার্স সেবা প্রদান করছে। এই সেবা প্রদানে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তারপরেও অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরা ভয় করেনি। তারা তাদের দায়িত্বের সেবা এখনও পালন করে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।