জলঢাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম।

জলঢাকা নির্বাচিত খবর শিক্ষাঙ্গন শিরোনাম শীর্ষ খবর


স্টাফ রিপোর্টারঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় সরকারি চাকরিবিধি না মেনে প্রায় ৫ মাস কম বসয় রেখে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের সদ্য জাতীয়করনকৃত চেংমারী ডাঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ জুলাই দ্বিতীয় ধাপে বিদ্যালয়টি জাতীয়করন হয়। বিদ্যালয়টিতে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদের জন্য ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে চাকরিতে যোগদান করার নিয়ম থাকলেও নিয়োগ এবং যোগদানে এর কোনটাই মানেনি তৎকালিন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু ছালেক। জাতীয়করন ঘোষনা হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে নিজের মেয়ে এবং ছেলের বউকে নিয়োগ দিতে নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা করেননি তিনি। চাকরিবিধি অনুযায়ী ১৮ বৎসরের কম বসয়ে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও নিজের ছেলের বউ শিল্পী আক্তারকে ৪ মাস ২১ দিন কম বয়সে নিয়োগ দেন সভাপতি আবু ছালেক। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিল্পী আক্তার ২০০৮ সালে রাজারহাট কাবাদিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। সনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৩/০৪/১৯৯৩ ইং। ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ২২/১১/১০ইং তারিখ। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর ৭ মাস ৯ দিন। অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ন হতে বাকি ছিল ৪ মাস ২১ দিন। পরবতর্ীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সভাপতির ছেলের বউয়ের চাকরি বাঁচানোর জন্য অতিগোপনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা না করে এবং পুনরায় কোন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই নামে মাত্র কাগজে কলমে শিল্পী আক্তারকে ৩১/০৫/২০১১ইং পুর্নরায় একক সিদ্ধান্তে নিয়োগ দেন সভাপতি। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকার নামের তালিকায় দেখা যায়,সহকারী শিক্ষিকা শিল্পী আক্তারের প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ ২৬/১১/১০ ইং। অর্থাৎ শিল্পী আক্তারের পুনঃ নিয়োগটি ছিল সম্পুর্ন ভূয়া। এতদিনে শিল্পী আক্তারের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি গোপনে থাকলেও বর্তমান সরকারের শিক্ষক স্থায়ীকরনের জন্য শিক্ষকদের কাগজপত্র পূর্নরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তথ্য চাওয়া হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষিকা শিল্পী আক্তারের সঙ্গে মুঠোফেনে কথা হলে তিনি জানান,‘‘আমাকে দুইবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে,প্রমথবারে বসয় কম থাকায় সভাপতি আমাকে দ্বিতীয়বার নিয়োগ দিয়েছেন।’’ এ বিষয়ে তৎকালিন ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নিয়োগ দাতা আবু ছালেকের (০১৭৭০৮১৯৪৯৬) এই নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শিল্পী আক্তারের বয়স কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মাদ বলেন,‘‘শিক্ষকদের বয়স যাচাইয়ে আমাদের কোন করনীয় নেই,তবে এ বিষয়টি উর্ধতন কতৃর্পক্ষ দেখবেন।’’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবীজ উদ্দিন সরকার বলেন,‘‘ শিক্ষক স্থায়ীকরনের জন্য সকলের ন্যায় শিল্পী আক্তারে কাগজপত্র যাচাইয়ে তার বয়স কম থাকায় এবং চাকরিবিধি না মেনে শিক্ষক নিয়োগ নেওয়ায় আমি তাকে শোকজ করেছিলাম। পরবর্তীতে তিনি পুর্ন নিয়োগ দেখিয়ে আমাকে জবাব দিয়েছেন। অতিগোপনে একাক সিদ্ধান্তে ভুয়া পুর্ন নিয়োগের বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,সেখানেও তারা অনিয়ম করেছে।’’ রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোজাহিদুল ইসলাম বলেন,‘‘বয়স কম থাকার পরেও কিভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ওই সহকারী শিক্ষিকার কাগজপত্র পাটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।