জলঢাকা বিশেষ সীলের মাধ্যমে দলিল লেখক সমিতির চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

জলঢাকা নির্বাচিত খবর শিরোনাম শীর্ষ খবর সারাদেশ


স্টাফ রিপোর্টারঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে দলিল লেখক সমিতির তথাকথিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দলিল প্রতি সমিতির নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে প্রতিবাদ সভা করেছে দলিল লেখকদের একাংশ । একটি বিশেষ সীল ব্যবহার করে প্রতিটি দলিলে সমিতির নামে অতিরিক্ত দুই হাজার করে টাকা আদায় করা হচ্ছে জমি গ্রহিতার কাছ থেকে। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে সোমবার দুপুরে থেকে বিকাল পর্যন্ত সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা করেছেন দলিল লেখক সমিতির সাবেক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও আনিছুর রহমানসহ ভুক্তভাগী দলিল লেখকেরা । প্রতিবাদ সভায় দলিল লেখক আনিছুর রহমান অভিযোগ করে বলেন,“সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল সম্পাদন করতে গেলে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আহমেদ হোসেন ভেন্ডার ও সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেেন সরকার সরকারি নির্ধারিত ফি এর বাইরে প্রতিটি দলিলে অতিরিক্ত দুই হাজার করে টাকা চাঁদা আদায় করছেন। গত ৩ অক্টোবর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হলে বিপাকে পড়েন জমি ক্রেতা বিক্রেতারা।”তিনি আরও বলেন,“চাঁদার টাকা পরিশোধের পর দলিলের পিছনের পাতায় একটি বিশেষ সীল ব্যবহার করেন তারা। সীল না থাকলে দলিল রেজিষ্ট্রেি না করে ফিরিয়ে দেন তারা। গত ১২ই অক্টােবর আমি একটি দলিল নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কামরায় গেলে চাঁদার টাকা পরিশোধ না করায় আমার হাত থেকে দলিল কেড়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তাদের লোকজন। এসময় তাদের নেতৃত্ব আমাক মারধর করে ওই কার্যালয় থেকে বের করে দওয়া হয়। এ ঘটনায় সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দ্বায়ের করেছি। দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,“তারা ঐক্যের নামে দলিল লেখকদেরকে সমিতির সদস্য করে চাঁদাবাজী শুরু করেছেন। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছেন। সর্বসাধারণের স্বার্থে আমরা ওই চাঁদাবাজী বন্ধ চাই।”সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আসা জমি ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বললে অতিরিক্ত ওই দুই হাজার টাকা আদায়ের সত্যতা পাওয়া যায়। এসময় উপজলার কৈমারী ইউনিয়নের যদুনাথ গ্রামের জমি ক্রেতা আশদুল ইসলাম (৫০) বলেন,“১১ শতক জমি কিনছি আমার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের নামে। ৯০ হাজার টাকার দলিল করতে দলিল লেখকরা খরচ চাছেন ১২ হাজার টাকা। গত মাস এ পরিমান টাকার দলিল রেজিষ্ট্রি অনেকেই করেছিলেন। তাদের খরচ হয়েছে কম। দলিল লেখক ঝড়িয়া চণ্দ্র রায় বলেন, অতিরিক্ত এ ২ হাজার টাকা ছাড়াও আরও ১৩ শ টাকা অফিস সহকারীর হাত দিতে হয়। অভিযোগের বিষয়ে জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আহমেদ হােসেন ভেন্ডার উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দলিল লেখক সমিতির নামে কোন চাঁদা বা অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না। দলিলের পিছনে বিশেষ সীল ব্যবহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের ঐক্যের সীল। এবিষয় সাব রেজিস্ট্রার মনীষা রায় বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়ে কোন গ্রাহক আমার কাছে অভিযোগ করেননি। তার টেবিলে থাকা দলিলগুলার পিছনে বিশেষ সীল প্রসঙ্গ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো কিসের সীল আমার জানা নেই? আপনারা দলিল লেখক বা ভেন্ডারদের সাথে কথা বলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।