নদী পুনঃ খননের ফলে গতি প্রকৃতি সবেই বদলাছে ধাইজান নদী

জাতীয় নির্বাচিত খবর নীলফামারী জেলা শিরোনাম শীর্ষ খবর সারাদেশ


মৃত্যুঞ্জয় রায়,জলঢাকা,নীলফামারীঃ
একদিকে যেমন যৌবন ফিরে পেয়েছে ধাইজান নদী অন্যদিকে বদলাছে তার চিরচেনা রূপ। অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকা ধাইজান নদী পূনঃ খননের ফলে নদীটিতে ফিরে এসেছে স্বাভাবিক গতি। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন নদীর তীরবর্তী কৃষক ও মৎস্যজীবিরা।
দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন না করায় দিনদিন সংকুচিত হচ্ছিল নদীটি। স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে ছিল নদীর অধিকাংশ জমি। নদীর ভিতর চাষাবাদের কারণে নদীর গভীরতা ও প্রশস্থতা হারিয়ে গিয়ছিলো। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবাহমান গতিপথে বৃষ্টির পানি উজান হতে ভাটিতে যেতে বাধাগ্রস্থ হতো। ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিতো জ্বলাবদ্ধতা। এর ফলে নি¤œাঞ্চাল সামান্য বন্যার পানিতে প্লাবিত হত। নদীটি পুনঃখননের ফলে চিরচেনা সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সৈয়দপুর ডিভিশন সুত্রে জানা গেছে ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নামে একটি মহাপরিকল্পনা’র অধীনে ১ম পদক্ষেপ হিসেবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত ‘৬৪টি জেলার অভ্যন্তরীণ ছোট বড় নদী, খাল এবং জলাশয় পূনঃখনন প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিগত ২০১৮-১৯অর্থ বছরে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ধাইজান নদী তিনটি প্যাকেজে মোট ২৮ কিলো মিটার নদী পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়। যা ২০২০-২১অর্থ বছরের জুন মাসে শেষ হবে।
সরেজমিনে জলঢাকা উপজেলার ধাইজান নদীর তীরবর্তী সুবিধা ভোগি কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, নদী পুনঃ খননের ফলে বন্যার পানি থেকে মুক্ত হয়েছে এলাকাবাসী। আগে ফসলি জমি ছাড়াও আশপাশে এলাকাগুলো সামান্য পানিতে তলিয়ে যেতো। এখন দ্রুত পানি নিষ্কাশন হওয়ায় আগের মত এখন সেটি আর হচ্ছে না। জমি গুলোতে এখন দুটি থেকে তিন ফসল ফলানো যাচ্ছে।
কাঁঠালী ইউনিয়নের দড়িভিজা দোলার কৃষক মজিবর রহমান জানান,বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে এসেছি এই দোলায় কোন চাষাবাদ হতো না। সারা বছরে পানি জমে থাকতো। নদী খননের ফলে এবার সেখানে জ্বলাবদ্ধতা নাই। আবাদ হচ্ছে প্রায় প্রায় হাজার হাজার একর জমিতে।
খননের ফলে শুধু কৃষিতেই নয়,প্রভাব পরেছে এ অঞ্চলের দেশীয় মৎস্যচাষের উপরেও।
এলাকার মৎস্য চাষী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নদী খননের ফলে এ বছর নদীতে প্রচুর পরিমানে দেশী মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে অনেকের আয় রোজগার বেড়েছে।
প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীটির একটি প্যাকেজে পূনঃখনন কাজ করেছেন মেসার্স এস.এ এন্ড এম.আই জেভি। খননকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল আলম সিয়াম জানান, চলতি বছরে পূনঃখনন কাজ শেষে হয়েছে। নদীর পাড় বাধা, ঘাস দিয়ে শোভাবর্ধন এবং বনায়ন কর্মসুচী করা হয়েছে। এর ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে পাবেন তীরবর্তী মানুষরা।
পানি উনয়ন বোর্ড সৈদয়পুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী কমল কৃষ্ণ সরকার বলেন,সরকারের নদী পুনঃখনন দীর্ঘ মেয়াদী একটি মহাপরিকল্পনা। এর ফলে নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পতিত ও অনাবাদী জমিগুলোকে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করেছে সরকার। ধাইজান নদী পুনঃ খননের ফলে নদী একদিকে ফিরে পেয়েছে তার নাব্যতা অপর দিকে কৃষক ও মৎস্যজীবিদের মুখে ফুটেছে হাসি। তিনি আরও বলেন এক সময় এ অঞ্চলের কৃষকদের ফসল ফলাতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন জমিগুলোতে পানি জমে না থাকায় ওই পতিত জমিগুলো থেকে দুই হইতে তিনবার ফসল ঘরে তুলতে পারছে কৃষকরা।
এছাড়াও প্রকল্পটির আওতায় নদী খননের পাশাপাশি নদীর দুই পাড়ে বনায়ন কর্মসুচী রয়েছে যার ফলে পরিবেশর ভারসাম্য রক্ষা পাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।